ক্যারিয়ার হিসাবে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কেমন? | Bongo Academy
ক্যারিয়ার হিসাবে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কেমন?
13th April 2021 By Jubayer
blog

৯৬৩ টি জব ক্যাটাগরির মধ্যে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার এর অবস্থান সবার উপরে।

CNN এর এক সমীক্ষা অনুসারে Best Jobs in America শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ৯৬৩ টি জব ক্যাটাগরির মধ্যে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার এর অবস্থান সবার উপরে। গড় বাৎসরিক আয় প্রায় ৯৮ হাজার ডলার এবং ১০ বছরের জব গ্রোথ ১৯% যা ছাড়িয়েছে অন্য সব ক্যাটাগরিকে।

আপনি নিজেও হয়তো প্রতিদিনই স্ন্যাপচ্যাটিং করে বা পকিমন ধরে দিনের অনেকটা সময় পার করছেন। মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপাররা প্রতিদিনই এমন কিছু করছে যেটা পৌঁছে যাচ্ছে পুরো দুনিয়ার মিলিয়নস মানুষের কাছে। আর এজন্যই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের স্ট্রেস কমানো, বিনোদন, জীবনকে সহজ করা সব ক্ষেত্রেই অবদান রাখছেন ডেভলপাররা।

অথচ, আমাদের দেশে বেকারের অভাব নেই। আমি কি পারবো প্রোগ্রামিং? বলেই বসে থাকি আমরা। কেউ কেউ ভাবে প্রোগ্রামার মানেই গুগলে জব পেতে হবে। আসলে কি তাই? কিছু জিনিস পুনরায় ভাবার সময় আছে। কিছু কাজের ক্ষেত্র আরো কয়েক যুগ বাড়তে থাকবে। সিদ্ধান্ত আপনার কোনটাকে বেঁছে নিবেন।

২০১৮ সালে,বিশ্বব্যাপী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় করা হয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এই আয় প্রায় ৩ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩৫ বিলিওন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও অ্যাপের বাজার ক্রমেই বাড়ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি দাঁড়াতে পারে। বিশ্বের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের (জিএসএম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হবে ৬০ শতাংশ। ফলে ২০২০ সালে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৭ নম্বরে উঠবে বাংলাদেশ। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বাড়ছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার এবং চাহিদা। ২০১৭ সালে দেশে অ্যাপের বাজার ছিল ৫০০ কোটি টাকার যা ২০১৮ তে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সত্যিকারেই পৃথিবীটা ছোট হতে হতে হাতের মুঠোয় চলে আসছে। যা সম্ভব হয়েছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে। মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে স্মার্টফোনের পেছনে। দরকার প্রয়োজনীয় অ্যাপ। নতুন নতুন উদ্ভাবনী অ্যাপ। বর্তমান সময়ে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি সবচেয়ে লাভজনক ইন্ডাস্ট্রি গুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া জব মার্কেটেও মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপারের অনেক পোস্ট খালি রয়েছে। দরকার স্কিলড ডেভেলপার।

জনপ্রিয় একটি অ্যাপ তৈরি করতে পারলে সারা জীবন আর্নিং এর কোন চিন্তা করতে হবে না। অন্য কোন উদ্ভাবনী কাজে নিজের সময় ব্যয় করা যাবে। আর যারা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চায় তাদের ভবিষ্যৎ তো উজ্জ্বল তার পাশাপাশি যারা শখের বসে কাজ করতে চায় তাদের জন্যও দারুন একটা ক্ষেত্র। কারণ মোবাইল অ্যাপ থেকে একটা প্যাসিভ ইনকাম সহজেই তৈরি করা যায়। কিভাবে এই ইনকামের পথ তৈরি করা যাবে সে বিষয়ে সামনে আলোচনা করা হবে। সাইটে চোখ রাখুন।

মোবাইল অ্যাপ থেকে প্যাসিভ ইনকাম, ক্যারিয়ার, স্টার্টআপ এসব উচ্চতর কোন বিষয় নয়।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একটা জোয়ারের মতোই এসেছে ডিজিটাল স্টার্টআপ। শুধুমাত্র অ্যাপ তৈরি করে বসে থাকা না, অ্যাপভিত্তিক স্টার্টআপ নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন অনেকেই। শুধু প্যাসিভ ইনকাম নয় বরং যারা সাহসী আর বড় স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন তারা শুরু করতে পারেন অ্যাপভিত্তিক স্টার্টআপ। তবে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সবার আগে। ভালো একটা আইডিয়া তৈরি করে কাজে নেমে পড়তে হবে।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার হিসাবে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইট অথবা সরাসরি অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাপের কাজ বাগাতে পারেন আর ইনকাম করতে পারেন ঘরে বসেই। যদিও ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজ আমি ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করি। কারণ বেশ কিছু সাইটে কাজের তুলনায় বাজেট কম থাকে। তবে নতুনদের জন্য ভালো সুযোগ করে দেয় এই সাইটগুলো। আমাদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও আমরা বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে পারি।

তাই আর দেরি কেন? মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে নিজের স্কিল তৈরির কাজ শুরু করে দিন। আজকে থেকেই। আমরা একটা অনলাইন কোর্সের আয়োজন করেছি Bongo Academy প্ল্যাটফর্মে। আমি নিজে ট্রেইনার হিসাবে থাকবো। একদম শুরু থেকে স্টেপ বাই স্টেপ গাইড করবো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর উপর। কোর্স অংশগ্রহন করতে এখানে ক্লিক করুন।